ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় সহিংসতা, ছাত্র হত্যা এবং নাশকতামূলক কর্মকান্ডের অভিযোগে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হাসিবুল ইহসানকে গ্রেপ্তারে চিরুনি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকেই এই শীর্ষ ছাত্রলীগ নেতা আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগের বিবরণ: পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হাসিবুল ইহসানের বিরুদ্ধে রাজধানীর পল্টন ও ধানমন্ডি থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। গত জুলাই ও আগস্ট মাসে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর সশস্ত্র হামলা এবং সরাসরি গুলিবর্ষণের ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার ভিডিও ফুটেজ ও ¯ি’রচিত্র আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে এসেছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে এলাকায় চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি এবং অস্ত্র মহড়া দেওয়ারও অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানী তথ্য: ¯’ানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, হাসিবুল ইহসান পল্টন এলাকায় একটি নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী গড়ে তুলেছিলেন। তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন কর্মীর দাবি, হাসিবুল সবসময় অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র সাথে রাখতেন এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখাতেন। গত ৩১ জুলাই তার সরাসরি নেতৃত্বে ছাত্রলীগের একদল কর্মী সাধারণ ছাত্রদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। সেই হামলায় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন।
জনরোষ ও পোস্টারিং: এদিকে, এলাকায় হাসিবুল ইহসানের বিচারের দাবিতে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা বিভিন্ন সময় মিছিল ও সমাবেশ করেছে। এলাকার বিভিন্ন দেওয়ালে তার বিরুদ্ধে পোস্টার ও প্লেকার্ড লাগানো হয়েছে, যেখানে তাকে ‘কুখ্যাত সন্ত্রাসী’ ও ‘গণশত্রু’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অনেক জায়গায় তাকে ধরিয়ে দিতে পারলে পুরস্কারের ঘোষণাও দিয়েছেন ¯’ানীয় বাসিন্দারা।
পুলিশের বক্তব্য: এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, “হাসিবুল ইহসান একজন তালিকাভুক্ত আসামি। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য আমরা সম্ভাব্য সকল ¯’ানে অভিযান চালা”িছ। সে যাতে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে দেশত্যাগ করতে না পারে, সেজন্য সীমান্ত এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। খুব দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।”
বর্তমানে হাসিবুলের পরিবারের সদস্যরাও আত্মগোপনে থাকায় তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।